ডেগ বা ডেকচিতে লালসালুর ব্যবহার কেন?
পুরান ঢাকা খাবারের জন্য এখনো বিখ্যাত, মোঘল আমল থেকে এ ধারাবাহিকতা চলে আসছে সুনাম ধরে রেখেছে যুগের পর যুগ। নানান পদের শাহী খাবারের প্রচলন ঘটে এই দেশে তাদের শাসন আমল হতেই। পুরান ঢাকার বিরিয়ানী তো স্বাদে অনন্য।
কখনো কী ভেবে দেখেছেন কেন বিরিয়ানী হাড়িতে লাল কাপড় ব্যবহার করা হয়? শুধু ঢাকায় নয় দেশের প্রায় সকল এলাকায় বিরিয়ানী ও হালিমের ডেগ বা ডেকচিতে লালসালু ব্যবহার আধিক্য দেখা যায়। কিন্তু কেন?
সমাজ ও মানুষের জীবনে রং ভিন্নতা প্রভাকর হিসেবে কাজ করে। রং এর এই ভিন্নতা ও অর্থ নানান দেশ ও জাতীতে ব্যবহার হয়।
তেমনি ইসলাম ধর্মে সবুজ ও সাদা রঙের ব্যবহার দেখা যায়। যার অর্থ শান্তি, স্বচ্ছন্দতা, শুদ্ধতার প্রতীক। লাল রঙ ভিন্ন দেশে উদ্দীপন অর্থে ব্যবহার হলেও এশিয়ায় কিছু লোকের কাছে লাল রঙ সৌভাগ্য , উষ্ণতা, আনন্দ- উৎসব, ভালোবাসার আবেগের রং হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইসলামিক জাগরণের পরবর্তী সুফিবাদের প্রচলনে পারস্য ও মুসলিম বিশ্বে লাল রং কে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার হয়। সুফিবাদে আল্লাহকে হৃদয় উৎসর্গ করে ভালোবাসা, উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর ক্ষেত্রে হৃদয়ের লাল রঙ সমর্থক হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।
এই লাল রং এর প্রভাব মুসলিম বিশ্বসহ বাংলাদেশকেও প্রভাবিত করেছে যে কোনো আনন্দ উৎসব মাজার, অভ্যর্থনা, আপ্যায়নে লাল রং এর গালিচা ও সালুর ব্যবহারকে সম্মানের চোখে দেখা হয়। ঢাকার খাবার পরিবেশনে লাল সালুর মোঘল পূর্ব আমল থেকেই দেখা যায়।
মুসলিম সমাজে যা তারা অভিজাত্য সম্মান, ভালোবাসার প্রতীক হিসেবেই মনে করতো। ক্রেতা ছবি আকর্ষণ রং হিসেবে লালকে ঢাকার পোলাও, হালিমসহ অন্যান্য খাবারের ডেগ বা ডেকচির লালসালুর ব্যবহার হয়ে থাকে।
মোঘল আমলে সেই সময়ের খাবারের পরিবেশন ছিল কিছুটা ভিন্ন ধরণের। যখন তারা খাবার পরিবেশন করতো তখন লাল কাপড়ের দস্তর বিছিয়ে নিতো। সুতরাং এটাও বলা যায় আভিজাত্য রক্ষার জন্যই লাল কাপড় ব্যবহার হয়ে আসছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন